জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর-জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে।
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ।
গণতন্ত্র ও সমঅধিকারের অঙ্গীকার
ভাষণের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশ সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল অর্থনীতি ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
রমজান উপলক্ষে আহ্বান
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।
ইফতার, তারাবীহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি সুবিধায় সংযমের ঘোষণা
তিনি জানান, বিএনপির কোনো এমপি ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার পরিকল্পনা
রাজধানীর যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করতে রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীই হবে দেশের জনসম্পদ। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।
সমঅধিকারের বার্তা
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবাই এই সরকারের সমান অংশীদার। দলমত যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কামনা করেন এবং রমজান মাস উপলক্ষে দোয়া প্রার্থনা করেন।
মব কালচার বরদাশত করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
