যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে; আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত তেহরানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না হলে তাদের আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ অনুমোদন করেছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়া হামলার জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং শতাধিক শহর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আবাসিক এলাকা, স্কুল ও হাসপাতালের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তাও দেন। তিনি বলেন, “আমরা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করব—এটা এমন একটি স্বপ্ন, যা তাদের কবরে নিয়েই যেতে হবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করে কঠোর আল্টিমেটাম দেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসও (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি বা স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে জোরালো হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান হামলায় প্রাণহানি, ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন এবং তেল–গ্যাস উৎপাদনে ধাক্কা লেগেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে কুয়েতে একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনায় ১০–১৫ বছরে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
