ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন আব্দুল মজিদ অন্তরআব্দুল মজিদ অন্তর

ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক শ্লোগানকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল মজিদ অন্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, শব্দের ভালো-মন্দ নির্ভর করে কে, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করছে তার ওপর। তাঁর মতে, বর্তমানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি ইতিবাচক রাজনৈতিক চেতনার পরিবর্তে অনলাইনে নারী হেনস্থাকারী, গালাগালি করা দেশি-প্রবাসী লম্পটদের স্লোগানে পরিনত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

বাঙালিদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালিরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। উর্দু ভাষাকে প্রত্যাখ্যান করে মাতৃভাষার আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং প্রাণের বিনিময়ে বাঙালির মাতৃভাষা ‘বাংলা’ প্রতিষ্ঠা পায়।

ভাষা চাপিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাষা সৃষ্টি করে, গ্রহণ করে।
আমাদের প্রচলিত শব্দগুলোর মধ্যে নানান ভাষার মিশ্রণ আছে। তাতে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি করেনি। কিন্তু মানুষের কাছে প্রচলিত গ্রহণযোগ্য শব্দ থাকা সত্ত্বেও যদি আমদানিকৃত শব্দ এনে চাপাচাপি করা হয়, তাহলে মানুষ সেইটার পলিটিকাল মোটিভ নিয়ে সন্দেহ করবেই। ভাষার সাথে কালচার জড়িত। কোন্ দেশ বা জাতির পলিটিকাল কালচার আপনি রিপ্লেসমেন্টের মতলব করছেন, সেটা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ থাকতেই পারে।

অনেক সময় ভালো জিনিসকেও মানুষ খারাপ হিসেবে দেখে, যদি সেটার বেশিরভাগ ব্যবহারকারী খারাপ হয়!
‘ইনসাফ’, ‘ইনকিলাব’ ‘আজাদি’ শব্দগুলোও সুন্দর শব্দ। তবে বর্তমানে জামাতিদের অতি ব্যাবহারের ফলে এই শব্দগুলো এখন বিরক্তিকর শব্দে পরিণত হয়েছে। ফলে জামাতিদের গোন্ডির বাইরে এই শব্দগুলোর কোনো ব্যবহার বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। যেহেতু সমাজে এই শব্দগুলোর প্রচলিত বাংলা শব্দ আছে, তাই নতুন করে এই শব্দগুলো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, গ্রহণযোগ্য কোনো কারণও নাই।

আবার হাদীর মৃত্যুর পর তাকে যখন মহান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হলো, অনেকেই শুরুতে সমর্থন করলেও অল্পদিনের মধ্যেই সেটা বিরক্তিকর হয়ে উঠলো! এর কারণ হলো- ‘আমরা সবাই হাদী হবো’ ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে শ্লোগান দিয়ে একদল লোক প্রোফাইলে হাদীর ছবি যুক্ত করলো। পরে দেখা গেল অধিকাংশই গুপ্তদের বট আইডি!

এই বট বাহিনী হাদীর ছবি ব্যবহার করে ‘ইনকিলাব’ জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিয়ে নারীদেরকে ভয়ানকভাবে হেনস্থা করা শুরু করলো। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নোংরা আক্রমণ আর গালিগালাজ শুরু করলো! হাদীর ছবিযুক্ত প্রোফাইল থেকে নারীদেরকে ধ র্ষণ ও হ ত্যার হু মকিও দেওয়া হতো প্রতিনিয়ত! ফলে হাদীর ছবিযুক্ত আইডিগুলো মানুষের কাছে অল্পদিনেই ঘৃণিত এবং বিরক্তিকর হয়ে উঠলো। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলা সেই বট আইডিগুলো আজ অধিকাংশ মানুষের ব্লক লিস্টে!

সুতরাং শব্দের ভালো-মন্দ নির্ভর করে কে, কখন, কোন প্রেক্ষাপটে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে তার উপর।
এখন পর্যন্ত কোনো সৎ চিন্তাশীল ব্যক্তি বা বুদ্ধিজীবী মহলের কাউকেই ইতিবাচক অর্থে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি ব্যপকভাবে ব্যবহার করতে দেখিনি। যাদেরকে দেখতে পাওয়া যায়, তাদের অধিকাংশই হাদীর ছবিওয়ালা আইডি, যেগুলো থেকে প্রতিনিয়ত হু মকি ধামকি, অশ্লীল গালাগালি আর নারীদেরকে হে নস্থা করা হয়। যেই শ্লোগান নারী নিপীড়কদের মুখেই বেশি উচ্চারিত হয়, সেই শ্লোগান সাধারণ মানুষ উচ্চারণ করতে লজ্জাবোধ করবে এটাই স্বাভাবিক।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এখন অনলাইনে নারী হেনস্থাকারী, গালাগালি করা দেশি-প্রবাসী লম্পটদের শ্লোগানে পরিনত হয়েছে। সেই গুপ্ত লম্পটগুলো সমাজে আজ ঘৃ ণিত, প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং এই উগ্রে ফেলা খাবার মানুষের পক্ষে আর গ্রহণ করা সম্ভব নয়!


‘ইনকিলাব’ উচ্চারণে আমার ব্লিডিং হয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু